হোস্টিং কি ? ব্লগিং এর জন্য কোন হোস্টিং ব্যবহার করব ?




যারা জানেন না, ওয়েব হোস্টিং কি? আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটের জন্য কোন হোস্টিং ব্যবহার করবেন? আপনারা অনেকেই জানেন, একটি ওয়েবসাইট অনলাইনে রাখতে গেলে সর্বপ্রথম ডোমেইন এবং তারপর হোস্টিং প্রয়োজন।

আজকে এই আর্টিকেলটি ওয়েব হোস্টিং সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা করার চেষ্টা করবো। তো চলুন শুরু করি।

হোস্টিং কি ?

সোজা বাংলায় হোস্টিং হচ্ছে সার্ভারের মেমোরি। আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট অর্থাৎ আর্টিকেল, ইমেজ, ভিডিও ইত্যাদি ইন্টারনেটে রাখতে গেলে একটা জায়গার প্রয়োজন। আর এই জায়গাটিকেই বলা হয় হোস্টিং। 

অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইটটা যদি আপনি অনলাইনে রাখতে চান এবং আপনার ওয়েবসাইটটা যদি অনলাইন থেকে সবাইকে দেখাতে চান, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটাকে সর্বপ্রথম ইন্টারনেট সার্ভার রাখতে হবে। এটাই হচ্ছে ইন্টারনেট মেমোরি বা হোস্টিং

অফলাইনে, আপনার মোবাইলে যখন কোন নাটক-সিনেমা কোন ফটো ইত্যাদি রাখতে চান, তাহলে মেমোরির প্রয়োজন হয়। কারণ নাটক-সিনেমার একটি নির্দিষ্ট সাইজ রয়েছে।

তেমনি অনলাইনে, আপনি যদি কোন ওয়েবসাইট রাখতে চান, তাহলে অনলাইন মেমোরির প্রয়োজন। কারণ আপনার ওয়েবসাইটে  ইমেজ আর্টিকেল ভিডিও ইত্যাদি থাকতে পারে। 

আপনার ওয়েবসাইটে যদি আপনি  ভিডিও ফটো ইত্যাদি রাখতে চান, তাহলে জায়গার প্রয়োজন, তাই আপনার অনলাইন মেমোরি দরকার। এই অনলাইন মেমরিটিকেই বলা হয় হোস্টিং। 

যদি আপনার মেমরিতে কোন মুভি বা নাটক সিনেমা থাকে, তাহলে আপনার ফোন যার কাছে আছে, সেই ব্যক্তি নাটক-সিনেমা গুলো দেখতে পারবেন। কিন্তু অনলাইন এর ক্ষেত্রে আপনি যদি অনলাইনে মেমোরিতে অর্থাৎ হোস্টিংয়ে আপনার ওয়েবসাইটা রাখেন,  তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের তথ্যগুলো যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তারা সবাই দেখতে পারবে।

আশা করি আপনাকে বোঝাতে পেরেছি হোস্টিং কি

হোস্টিং কত প্রকার এবং হোস্টিং কি কি?

হোস্টিং এর নির্দিষ্ট কোন প্রকার ভেদ নেই। কিন্তু আমরা বিভিন্ন হোস্টিং কোম্পানি ওয়েবসাইট এ বিভিন্ন নামে চিনে থাকি। যেমন- ওয়েব হোস্টিং, ই-কমার্স হোস্টিং, ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং, শেয়ার্ড হোস্টিং, রিসেলার হোস্টিং, ও ভিপিএস হোস্টিং ইত্যাদি। চলুন এ সম্পর্কে আপনাদেরকে বিস্তারিত বলে দিই।

ওয়েব হোস্টিং কি: ওয়েব হোস্টিং মূলত ওয়েবসাইটের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এখানে আপনি যেকোন ধরনের ওয়েবসাইট রাখতে পারেন। ওয়েব হোস্টিং ওয়েবসাইট রাখার জন্য অপটিমাইজ করা হয়েছে।

ই-কমার্স হোস্টিং কি: আপনার যদি একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট থাকে এবং এই ওয়েবসাইটটি অনলাইনে হোস্ট করতে চান। তাহলে ই-কমার্স হোস্টিং পছন্দ করতে পারেন। কারন ই-কমার্স হেস্টিং ওয়েবসাইট স্পিড বৃদ্ধি উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। ই-কমার্স হেস্টিং ব্যবহার করলে আপনি অনলাইন স্টোরের লোডিং স্পীড বৃদ্ধি পাবে।

ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং কি: ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং মূলত ওয়ার্ডপ্রেসকে অপটিমাইজ করে তৈরি করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে বলা যায় যে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের জন্য ডেডিকেটেড হোস্টিং। 

শেয়ার্ড হোস্টিং কি: শেয়ার হোস্টিং মূলত একটি server কে অনেকের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হয়। উদাহরণ: মনে করুন একটি হার্ডডিক্স বা একটি কম্পিউটার চারজন মিলে ইউজ করতেছে। যার কারণে ওই কম্পিউটারের দাম কমে যাচ্ছে। আর এই কারণে শেয়ার হোস্টিং কম দামে কেনা যায়।

রিসেলার হোস্টিং কি : রিসেলার হোস্টিং এর ক্ষেত্রে অনেক ছোট ছোট কোম্পানিগুলো পাইকারি দরে হোস্টিং কিনে আপনাকে দিচ্ছে। দেশী কোম্পানিগুলো সাধারণত এমন করে হোস্টিং বিক্রি করে। দাম কম হলে এই হোস্টিং না কেনা উচিত।

ভিপিএস হোস্টিং কি : ভিপিএস হোস্টিং মূলত ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার হোস্টিং। এক্ষেত্রে একটি গোষ্ঠী মাল্টিপল লোকের কাছে বিক্রি করে না ভিপিএস হোস্টিং এর ক্ষেত্রে আপনি একটি আইপি অ্যাড্রেস কিনতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইট লোডিং স্পিড থেকে শুরু করে সব কিছু সুপারস্টার হবে। তবে ভিপিএস হোস্টিং এর দাম অনেক বেশি হয়। আপনার কম্পানি বা ব্যবসা যদি অনেক বড় হয়, তাহলে আপনি vps হোস্টিং ব্যবহার করতে পারেন।

হোস্টিং কেনার আগে যা দেখে নিতে হবে:

আপনি যদি কোন হোস্টিং কিনেন, সেই হোস্টিং এ কি কি সুবিধা আছে, আগে আপনাকে দেখে নিতে হবে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখানে আলোচনা করা হলো:

Disk Space: সোজা বাংলায় ডিস্ক স্পেস হল আপনাকে মেমোরি দেওয়া। অর্থাৎ কতটুকু হার্ডডিক্স বা এসএসডির জায়গা দেওয়া হয়েছে। একটা ছোট ওয়েবসাইটের জন্য 2 জিবির মত স্পেস হলেই হয়। আপনার ওয়েবসাইটের যদি বড় হয়, তাহলে 2gb বেশি Disk হোস্টিং কিনতে হবে।

Bandwidth : ব্যান্ডউইথ হলো কি পরিমাণ মেগাবাইট বা জায়গা আপনার ওয়েবসাইট ইউজ করতেছে।  উদাহরণ: websoriful.com ওয়েবসাইটটি যদি হোমপেইজে এক মেগাবাইট পরিমাণ রিসোর্স থাকে এবং কেউ যদি  websoriful.com সাইট একবার ভিজিট করে। তাহলে টোটাল ব্যান্ডউইথ 1 মেগাবাইট কাটা যাবে। এভাবেই মূলত ব্যান্ডউইথের হিসাবটা করা হয়।  

আপনার হোস্টিং এর ব্যান্ডউইথ যত বেশি তত আপনার জন্য ভালো। কারণ ব্যান্ডউইথ কম হলে ওয়েবসাইটের যদি বেশি পরিমাণে ভিজিটর হয়, তাহলে আপনার ওয়েবসাইট ডাউন হয়ে যাবে। সুতরাং হোস্টিং কেনার সময় এই বিষয়টি খুবই গুরুত্ব দিবেন।

Up-time : আপটাইম মূলত আপনার সার্ভারটি দৈনিক কতক্ষণ চালু থাকে। আগে বিষয়টি অনেক ঝামেলার হলেও বর্তমানে দেখা যায় বেশিরভাগ হোস্টিং কোম্পানি 100% পরিমাণ সার্ভার ওপেন রাখে। যদিও ছোট কোম্পানির হোস্টিং গুলো মাঝে মধ্যে পাঁচ দশ মিনিট ডাউন টাইম থাকে।

Hosted Domains: আপনার যদি একাধিক ওয়েবসাইট থাকে। এবং সেই সবগুলো ওয়েবসাইট যদি একটি হোস্টিং এ হোস্ট  করতে চান, তাহলে আপনাকে দেখে নিতে হবে সেই হোস্টিং এ কতগুলো ডোমেইন Hosted করা যাবে।

আপনার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল:

মোবাইল দিয়ে স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম

অন লাইন ইনকাম শুরুটা কিভাবে করবেন? (বিস্তারিত গাইড)

মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং – মোবাইল দিয়ে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করা যায় ?

3 টি মাধ্যমে মোবাইল দিয়ে টাকা ইনকাম

শুরু করার জন্য আমি কি হোস্টিং নেবো?

যেহেতু ব্যবসা শুরু হবে, আপনার কাছে বেশি বাজেট নাও থাকতে পারে।  শুরু করার জন্য শেয়ার্ড হোস্টিং নেওয়া সব থেকে বেস্ট অপশন। কারণ আপনি কম দামে শেয়ার্ড হোস্টিং কিনতে পারবেন। এবং আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে সেটি আপডেট করে নিতে পারবেন, যেকোন ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি থেকে।

ব্লগিং এর জন্য কোন হোস্টিং ব্যবহার করব ?

আপনি যদি ব্লগিং শুরু করতে চান এবং বলেন কোন হোস্টিং নেব? এবং আপনার ব্লগ ওয়েবসাইট যদি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি করেন, তাহলে আমার পরামর্শ হবে আপনি শেয়ার্ড হোস্টিং নেন। কারণ ব্লগ ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি করলে নতুন অবস্থায় শেয়ার্ড হোস্টিং বেস্ট।

আপনি বর্তমানে websoriful.com ওয়েবসাইটে এই আর্টিকেলটি পড়তেছেন। এটা শেয়ার্ড হোস্টিং ব্যবহার করে  websoriful.com ওয়েবসাইট হোস্ট করা হয়েছে। 

আর আপনি যদি blogger.com ব্যবহার করে আপনার ওয়েবসাইট তৈরী করে থাকেন,  তাহলে তো আপনাকে কোন হোস্টিং কিনতে হবে না। কারণ ব্লগারের হোস্টিং গুগল সরবরাহ করে।

কোন কোম্পানি থেকে শেয়ার্ড হোস্টিং নিবো? 

আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য শেয়ার হোস্টিং সিলেক্ট করে থাকেন, আপনার জন্য Namecheap শেয়ার হোস্টিং কোম্পানির নাম বলবো। এবং এই হোস্টিং কোম্পানি থেকে আপনি ভাল সার্ভিস পাবেন।  

Namecheap থেকে আপনি খুব ভালো মানের শেয়ার হোস্টিং পাবেন এবং দাম খুবই কম। এবং হোস্টিং এর সাথে আপনি এক্সট্রা কিছু সার্ভিস পাবেন, যা অন্য কোন হোস্টিং কোম্পানিতে পাবেন না। এখানে সব থেকে বড় সুবিধা হলো যেকোনো সমস্যায় যখন তখন তাদের সাপোর্ট টিমে সাথে লাইভ চ্যাট এ কথা বলা যায়। যেকোনো সমস্যায় যখন তখন সমাধান নেওয়া যায়। আমার এই ওয়েবসাইটটাও Namecheap শেয়ার্ড হোস্টিং থেকে হোস্ট করা।

বাংলাদেশের ভালো কোন শেয়ার হোস্টিং কোম্পানি সম্পর্কে আমার জানা নেই।

শেষ কথা:

এই আর্টিকেলটিতে আপনাদের হোস্টিং সম্পর্কে একটি সঠিক গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে আপনারা  হোস্টিং কি? কোন হোস্টিং ভালো এই সম্পর্কে জানতে পারেন। 

আপনার কোন কিছু জানার বা মতামত প্রকাশের দরকার হলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।  রেগুলার অনলাইন ইনকাম টিপস পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

ভুল ত্রুটি মার্জনীয়। আবারো ধন্যবাদ।

4 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.