অন পেজ এসইও করে ওয়েবসাইট গুগোল রেংকিং 100% গ্যারান্টি




আমরা যারা ব্লগার বা ফ্রিল্যান্সার আছি, ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করে থাকি। আমরা অন পেজ এসইও সম্পর্কে জানি । যারা অন পেজ এসইও সম্পর্কে জানেনা, তাদের জন্য এই আর্টিকেলটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এই আর্টিকেলে অন পেজ এসইও নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

কারণ অন পেজ এসইও ছাড়া কোন ওয়েবসাইট গুগোল টপ রেংকিং করা সম্ভব নয়, এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সুতরাং আপনার অথবা আপনার ক্লায়েন্ট এর ওয়েবসাইট গুগোল টপ রেংকিং আনতে হলে অন পেজ এসইও এর কোন বিকল্প নেই।

আমার তিন বছর ক্যারিয়ারে একটা বিষয় লক্ষ করেছি,কোন ব্যক্তি যদি তার ওয়েবসাইট এর অন পেজ এসইও 100% করে থাকে, তাহলে অবশ্যই সে গুগোল টপ রেংকিং এ আসতে পারবে। কারন একটি ওয়েবসাইটকে রেংকিং এ আনতে হলে অন পেজ এসইও এর গুরুত্ব 80% এবং বাকি 20% অফ পেজ এসইও।

উদাহরণ হিসেবে আমি আমার ওয়েবসাইট websorifu.com -এর কথাই বলবো। কারণ এখন পর্যন্ত আমি এই ওয়েবসাইট অফ পেজ এসইও করিনি। শুধুমাত্র অন পেজ এসইও দিয়েই আমার অনেক আর্টিকেল গুগোল টপ রেংকিং এ

ব্যক্তিগতভাবে আমি আমি অন পেজ এসইও কে বেশি প্রাধান্য দেই। কারণ আজ পর্যন্ত আমি আমার এবং আমার অনেক ক্লায়েন্টদের ওয়েবসাইট অন পেজ এসইও করে র‌্যাংক করতে সক্ষম হয়েছি। তো চলুন জেনে নেয়া যাক, অন পেজ এসইও সম্পর্কে বিস্তারিত।

অন পেজ এসইও কি ?

একটা সময় ছিল অন পেজ এসইও সেভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। শুধু কন্টেন্ট এর মধ্যে বারবার কিওয়ার্ড ব্যবহার করলেই গুগল ওয়েবসাইটকে র‌্যাংক দিয়ে দিত। কিন্তু বর্তমানে এমন নেই গুগোল। এখন গুগোল কোয়ালিটি কনটেন্ট এর গুরুত্ব দেয়। এখন শুধু কন্টেন্ট ওয়েবসাইটে পাবলিশ করলেই হয় না। সেটা শতভাগ অন পেজ এসইও অপটিমাইজেশন করতে হয়। তবেই র‌্যাংক করা সম্ভব হয়।

“ওয়েবসাইট এর কন্টেন্ট গুলো  ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং সার্চ ইঞ্জিন ফ্রেন্ডলি করাকেই অন পেজ এসইও বলে।”

১০০%  অন পেজ এসইও ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট লেখার জন্য, আপনি কোন বিষয়ে কনটেন্ট লিখবেন তা সাবজেক্ট এবং কিওয়ার্ড নির্ধারণ করতে হবে। রিসার্স করা কিওয়ার্ড গুলো দিয়ে ধারাবাহিক ভাবে কন্টেন্ট লিখে অন পেইজ এসইওর কাজ করতে হবে। নিচে আমি অন পেজ এসইও এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে আলোচনা করেছি।

কিওয়ার্ড রিসার্চ

অন পেজ এসইও এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কিওয়ার্ড রিসার্চ। কোন কনটেন্ট লেখা শুরু করার আগে আপনার মূল ফোকাস কিওয়ার্ড কি এবং আপনি কোন কিওয়ার্ডগুলো আর্টিকেল এর ব্যবহার করবেন ? এগুলা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । 

ধরেন আপনি এরকম একটা কিওয়ার্ড দিয়ে আর্টিকেল লিখলেন, যেটার গুগল সার্চ ভ্যালু শূন্য। যদি সেই আর্টিকেলটা গুগল সার্চ ইঞ্জিনে রেঙ্ক করে, তবুও আপনি ভিজিটর পাবেন না। কারন আপনার সেই কিওয়ার্ড দিয়ে কোন ভিজিটর গুগলে সার্চ দেয় না।

সুতরাং কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য অবশ্যই আপনাকে দেখতে হবে এর প্রতিদ্বন্দ্বী, কিওয়ার্ডের মাসিক সার্চ ভ্যালু এবং সে কিওয়ার্ড দিয়ে আপনার ওয়েবসাইট লিঙ্ক করার সম্ভাবনা কতটুকু আছে ইত্যাদি

কীওয়ার্ড রিসার্চ এর জন্য আপনি অনেক ফ্রি এবং পেইড টুল পেয়ে যাবেন, তার মধ্যে কিছু জনপ্রিয় হলো 

  • Ahrefs
  • Moz Pro 
  • KWFinder 
  • Ubersuggest Enterprise 
  • Google Keyword Planner etc.

কিওয়ার্ড রিসার্চ করার পর, কিওয়ার্ড ব্যবহার করে কন্টেন্টে লিখতে হবে। 

কিওয়ার্ড ব্যবহার: 

আপনার সিলেক্ট করা কিওয়ার্ড অন পেজ এসইওর জন্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই কিওয়ার্ডটি আপনাকে কয়েকটি জায়গায় ব্যবহার করতে হবে। তবে ঘন ঘন প্রতিটি বাক্যে নয়।

আপনার আর্টিকেলের প্রথম প্যারায় একশ শব্দের মধ্যে এই কিওয়ার্ডটি ব্যবহার করতে হবে। এটি মেটা টাইটেল, ইউআরএল ও ডেসক্রিপশনে ব্যবহার করতে হবে। মেটা টাইটেল ৬০ শব্দের মধ্যে হতে হবে। তবে মেটা টাইটেল H1 ট্যাগে রাখলে বেশি ভালো।

আপনি Rank Math বা Yoast SEO প্লাাগিনে কিওয়ার্ড ফোকাসড কিওয়ার্ড অপশনে সিলেক্ট করে দিলে, গুগল বুজবে আপনি কোন কিওয়ার্ড দিয়ে আর্টিকেলটি র‌্যাংক করতে চাচ্ছেন।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে,

একটি আর্টিকেলে আমি কতগুলো কিওয়ার্ড বসাবো?

কিওয়ার্ড ব্যবহার

এর কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই। এটা নির্ভর করে আপনার আর্টিকেলটি কত বড়। SEO প্লাগিনে আপনি কিওয়ার্ড ঘনত্ব দেখতে পারবেন। এটি সব সময় আপনার আর্টিকেল এর 1 রাখতে ট্রাই করবেন। যখন একটি সবুজ টিকমার্ক উঠবে, তখন বুঝবেন আপনার কিওয়ার্ড ঘনত্ব ঠিক আছে।

কোয়ালিটি কন্টেন্ট: 

গুগল কোথাও বলেনি যে ওয়েবসাইটে কত বড়, কত পরিমান কন্টেন্ট থাকলে ওয়েবসাইটকে র‌্যাংক করাবে। কিন্ত গুগল এটা বলেছে যে, কোয়ালিটি ফুল তথ্য বহুল আর্টিকেলকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। 

কন্টেন্ট লেখা শেষ করে আপনি নিজেকে ওয়েবসাইটের ভিজিটর হিসেবে কল্পনা করুন এবং পোস্টটি রিভিউ করুন। যদি আপনার কাছে একটা ভাল মনে হয়, তাহলে অবশ্যই এটা অন্যান্য ভিজিটরদের কাছে ভাল মনে হবে।

কোন বিষয়ে সার্চ করলে সবচেয়ে বেশি এবং সঠিক তথ্য যে ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে, আপনি সেই ওয়েবসাইটকেই বেশি পছন্দ করবেন না? ঠিক গুগলও সঠিক এবং নির্ভুল তথ্য পছন্দ করে। সুতরাং ভিজিটরের কথা চিন্তা করে সবচেয়ে ভাল কোয়ালিটি এবং তথ্যবহুল, নির্ভুল কন্টেন্ট তৈরী করুন।

আপনি যে বিষয়ে কন্টেন্ট লিখবেন, আগে গুগলে সে বিষয়ে সার্চ দিন। প্রথম পেইজে থাকা আর্টিকেলগুলো দেখে নিতে হবে। সেগুলো কত শব্দে আছে । তাদের চেয়ে বাড়িয়ে বিস্তারিত লিখতে হবে। সেই কন্টেনগুলোর ইনফরমেশনের সাথে আরো কি কি যোগ করা যায় ?  সেই জায়গাটায় আপনার গুরুত্ব সহকারে কাজ করতে হবে।

যদি প্রতিদ্বন্দ্বী বেশি হয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বীরা অনেক স্ট্রং হয়। তাহলে আপনাকে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ভালো কনটেন্ট লিখতে হবে। যাতে ভিজিটররা আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করে। মনে রাখবেন তথ্যবহুল বড় পোস্ট লিখলে গুগল দ্রুত র‌্যাংক দেয়।

কিন্তু বর্তমানে গুগল ছোট ছোট বিক্ষিপ্তভাবে কোন ওয়েবসাইটকে র্যাঙ্ক দেওয়ার চেয়ে কোন অথরিটি সাইটকে র‌্যাংক দিতে পছন্দ করে। কারণ গুগল ইউজার ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট এর কথা চিন্তা করে যে ওয়েবসাইট কোন টপিকে অনেকগুলো ভাল আর্টিকেল প্রকাশ করে, তাদের গুগল প্রথম পেইজে র‌্যাংক দেয়।

কিভাবে অন পেজ এসইও টাইটেল অপটিমাইজ করবেন ?

আপনার আর্টিকেলের শুরুতে আপনার টাইটেলের শুরুতে ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন, মূল ফোকাস কিওয়ার্ডটি পোস্টের শুরুতে থাকবে, পোস্ট টাইটেল ৬০ শব্দের বেশি হবে না, টাইটেলে ফোকাস কিওয়ার্ড একবারের বেশি ব্যবহার করা ভালো না।  টাইটেলে হাইফেন, ব্র্যাকেট ও পাওয়ার ওয়ার্ড ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে।

আপনার আর্টিকেলের শুরুতে আপনার টাইটেলের শুরুতে ফোকাস কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন, মূল ফোকাস কিওয়ার্ডটি পোস্টের শুরুতে থাকবে, পোস্ট টাইটেল ৬০ শব্দের বেশি হবে না, টাইটেলে ফোকাস কিওয়ার্ড একবারের বেশি ব্যবহার করা ভালো না।  টাইটেলে হাইফেন, ব্র্যাকেট ও পাওয়ার ওয়ার্ড ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে।

আপনার আর্টিকেলে পাওয়ার ওয়ার্ড গুলো যেমন best, top, review, helpful, guide এই শব্দগুলো টাইটেলে ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। তাহলে পাঠক ক্লিক করার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

পেজ টাইটেল অপটিমাইজ করতে পারলে সংখ্যা ব্যবহার করুন যেমন 2021, 2022 ইত্যাদি । বিভিন্ন এসইও প্লাগিন সংখ্যা ব্যবহার করার পরামর্শ দেই। নিচের চিত্রটি লক্ষ করুন। Rank math SEO plugin ও সংখ্যা বা নাম্বার ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

অন পেজ এসইও
SEO plugin সংখ্যা বা নাম্বার ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন

কিভাবে Permalink ব্যবহার করবেন ?

Permalink  ফোকাস কিওয়ার্ড অবশ্যই থাকতে হবে। Permalink সর্বোচ্চ ৭৫ শব্দ বা আরো সংক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করুন। আপনার ওয়েবসাইট যদি ওয়ার্ডপ্রেসে তৈরি হয়, অবশ্যই এসইও প্লাগইন rank math বা Yoast SEO ব্যবহার করতে ভুলবেন না। কারণ rank math বা Yoast SEO প্লাগইন এ সমস্ত কিছু সুন্দর ভাবে দেখানো হয়।

​​মেইন কিওয়ার্ড Permalink এ রাখতে হবে, কিওয়ার্ডসহ ছোট করে Permalink লিখতে হবে, Permalink অর্থবোধক হতে হবে, শব্দের মাঝখানে হাইফেন ব্যবহার করতে হবে, সংখ্যা ব্যবহার করা যাবে না।

আপনার আর্টিকেলের মধ্যে যাতে কিওয়ার্ড স্টাফিং বা বেশি না হয়ে যায়, সে জন্যে রিলেটেড কিওয়ার্ড ও LSI কিওয়ার্ড ব্যবহার করা ভালো। এতে আপনার ওয়েবসাইট আপনার মেইন কিওয়ার্ড এর পাশাপাশি, কিছুটা রিলেটেড অন্যান্য কিওয়ার্ড গুলো দিয়েও গুগোল টপ রেংকিং এ আসবে। এই কিওয়ার্ড গুলো পারলে কন্টেন্ট এবং হেডিং ট্যাগ H1, H2, H3 এ ব্যবহার করেন। গুগল এই হেডিং ট্যাগগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়।

অন পেজ এসইও
Permalink

পোস্টে পার্মালিংক যদি ফোকাস কিওয়ার্ডসহ ব্যবহার করা হয়, তাহলে গুগল সার্চে টপ এ আসতে সাহায্য করে। তাই যেমন তেমন ভাবে url ব্যবহার করা যাবে না। বাংলা ওয়েবসাইট হলে অবশ্যই ইউআরএল ইংলিশ শব্দ ব্যবহার করুন। কারণ বাংলা শব্দ ইউআরএল ব্যবহার করলে অনেক হিবিজিবি দেখা যায়।

কিভাবে হেডিং ট্যাগ ব্যবহার করবেন ?

অন পেজ এসইও তে হেডিং ট্যাগ ওয়েবসাইট গুগল টপ রেংকিং এর ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং হেডিং ট্যাগএ হিবিজিবি শব্দ ব্যবহার না করে আপনার কিওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

অবশ্যই আপনার আর্টিকেলে একবার হলেও H1 হেডিং ট্যাগ টাইটেল ব্যবহার করুন। একটি পোস্টে শুধুমাত্র H1 হেডিং ট্যাগ 2/3 ব্যবহার করা ভালো, এছাড়াও LSI বা সিমিলার টার্গেট কিওয়ার্ড গুলো H2 হেডিং ট্যাগে রাখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সাব হেডিংকে H2 বা H3 ট্যাগের মধ্যে রাখতে হবে।

ওয়েবসাইট রেংকিং এর ক্ষেত্রে সাইট স্পিড এর ভূমিকা:

একটি ওয়েবসাইট গুগল রেংকিং এর ক্ষেত্রে সাইট স্পিড অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চলুন তাহলে বাস্তব কয়েকটা উদাহরণ দেখে আসি…

ওয়েবসাইট লোডিং স্পিড বেশি হওয়ায় বাউন্স রেট বৃদ্ধি: একটি ওয়েবসাইট গুগল রেংকিং হারানোর সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে বাউন্স রেট বৃদ্ধি। যে ওয়েবসাইটে বাউন্স রেট যত কম, সে ওয়েবসাইট তত দ্রুত গুগোল রেংকিং এ আসবে। আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে,

বাউন্স রেট কি এবং কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?

ব্রাউনস রেট হল ভিজিটররা কোন ওয়েবসাইটে পুরোপুরিভাবে প্রবেশ করার আগেই সেই ওয়েবসাইট থেকে চলে যায়। একটি ওয়েবসাইটে ব্রাউন সেট বৃদ্ধির কয়েকটি কারণ হতে পারে। ১. ওয়েবসাইটের লোডিং স্পিড খুবই বেশি এবং ২. কনটেন্ট কোয়ালিটি ভালো নয়।

আপনার ওয়েবসাইট যদি বাউন্স রেট বেশি হয়, তাহলে গুগোল মনে করবে আপনার ওয়েবসাইটটা ইউজার ফ্রেন্ডলি না এবং আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্ট ভিজিটরদের কোনো কাজেই আসবে না। তাই আপনার ওয়েবসাইট গুগল রেংকিং হারাবে। সুতরাং বাউন্স রেট রেংকিং এর ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

একটি ভাল বাউন্স রেট কোনটি?

আপনার ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট যদি 56% থেকে 70% বা আরো বেশি হয়। তাহলে এটি একটি বাউন্স রেট উচ্চ দিকে রয়েছে। 41% থেকে 55% গড় বাউন্স রেট হিসাবে ঠিক আছে৷ সবচেয়ে ভালো বাউন্স রেট এর গড় হচ্ছে 26% থেকে 40% বা আরো কম রেঞ্জের মধ্যে।

ইউজার ফ্রেন্ডলি: আপনার ওয়েবসাইটের লোডিং স্পীড যদি বেশি হয়, তাহলে ইউজাররা আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করে মজা পাবে না। সুতরাং ভিজিটররা যদি আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করে মজা না পাই, তাহলে সে দ্বিতীয়বার আপনার ওয়েবসাইটে আসতে চাইবে না।

ওয়েবসাইট লোডিং স্পীদ বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে ইমেজ এবং ভিডিও সবচেয়ে বেশি দায়ী। সুতরাং ভালো স্পীড পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই ইমেজ অপটিমাইজ করতে হবে পারলে ইমেজের জন্য CDN (Content delivery network) ইউজ করেন।

এবং সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে থিম। অর্থাৎ আপনি আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করার সময় যে থিমটি ব্যবহার করেছেন, সেটা খুবই ভালো লোডিং স্পিড আছে কিনা। তা পরীক্ষা করা আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । সুতরাং অবশ্যই ওয়েবসাইটে কোন থিম ব্যবহার করার আগে ডিজাইনের পাশাপাশি লোডিং স্পীড গুরুত্ব সহকারে দেখে নিন।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন, ওয়েবসাইট লোডিং স্পীড আপনার ওয়েবসাইটের রেংকিং এবং ভিজিটর বৃদ্ধি করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইন্টারনাল লিংকিং :

আমরা যখন কোন ওয়েবসাইটে কোন বিষয়ে আর্টিকেল পড়ি, সেই কনটেন্ট এর মধ্যে একই ওয়েবসাইটের অন্য অনেকগুলো রিলেটেড আর্টিকেল এর লিংক করা থাকে। আর এটাই হচ্ছে ইন্টারনাল লিংকিং। ইন্টারনাল লিংকিং বাউন্স রেট কমাতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Anchor Text হিসেবে মেইন কিওয়ার্ড ব্যবহার করে যদি অনেকগুলো আর্টিকেল ইন্টারলিংক করা হয়, তাহলে অনেক ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে। এটি ওয়েবসাইটের পেইজ ভিউ বৃদ্ধি করবে এবং বাউন্স রেট কমাতে সাহায্য করবে যা র‌্যাংকিংয়ে সহায়তা প্রদান করে। উপরের বিষয়গুলো আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা।

সূচিপত্র বা টেবিল অফ কনটেন্ট:

ধরেন আপনি দুই হাজার ওয়ার্ড এর একটি আর্টিকেল লিখেছেন। এখানে আপনি অনেক গুরুত্বপূর্ন কিছু নিয়ে আলোচনা করেছেন। ভিতরে কি আছে?

অন পেজ এসইও
টেবিল অফ কনটেন্ট

উপরের চিত্রটি লক্ষ্য করুন এটাই হচ্ছে টেবিল অফ কনটেন্ট। টেবিল অফ কন্টেন বা সূচিপত্র এটা কোন একটি আর্টিকেল এর শুরুর দিকে থাকবে। আমরা টেবিল অফ কনটেন্ট বা সূচিপত্র দেখে যেকোনো অংশে সরাসরি মুভ করতে পারি1 সেকেন্ড এরও কম সময়ে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেল না পড়লে ভিজিটর বুঝতে পারবে না। যদি আপনার ওয়েবসাইটের টেবিল অফ কনটেন্ট বা সুচিপত্র থাকে এবং প্রত্যেকটা স্টেপ বাই স্টেপ সাজানো থাকে। তাহলে এটা ভিজিটরের জন্য খুবই ভালো।

সুতরাং আপনি চেষ্টা করবেন যতটা সম্ভব আপনার আর্টিকেলটা ভিজিটর দের জন্য ইউজার ফ্রেন্ডলি করা। এবং গুগল সার্চ ইঞ্জিন আপনাকে এটাই করতে বলে। নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করুন

অন পেজ এসইও
টেবিল অফ কনটেন্ট এর গুরুত্ব

ওয়ার্ডপ্রেসের seo প্লাগিনগুলো আপনাকে এটাই বলে। অনপেজ এসইও এর জন্য টেবিল অফ কনটেন্ট খুবই কার্যকরী। উপরের চিত্রটি আমির rank math seo প্লাগিন থেকে নিয়েছি।

আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট এ টেবিল অফ কন্টেন কিভাবে ব্যবহার করবেন? ইউটিউব একটা ভালো ভিডিও আছে। আপনি চাইলে দেখতে পারেন।

উপসংহার:

অন পেজ এসইও হচ্ছে একটা ওয়েবসাইটের প্রাণ। যেমন আপনার প্রাণ না থাকলে আপনি অচল তেমনি ওয়েবসাইটে ক্ষেত্রে অন পেজ এসইও না থাকলে আপনার ওয়েবসাইট অচল।

উদাহরণস্বরূপ ধরেন, আপনার একটি ওয়েবসাইট আছে এবং এই ওয়েবসাইটে আপনি কোটি কোটি ব্যাকলিংক করলেন এবং এর সাহায্যে প্রচুর ভিজিটর আনলেন। আপনার সাইটে দেখলাম কোয়ালিটি এবং লোডিং স্পীড খুব খারাপ ইত্যাদি আরো অনেক সমস্যা। তাহলে সেই ভিজিটররা অবশ্যই দ্বিতীয়বার আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে চাইবে না।

আর ধরেন আপনার ওয়েবসাইট এখনোর রেংক গুগল রেংকিং হয়নি। একজন ভিজিটর যদি আপনার উত্তর ভিজিট করে উপকৃত হয়, তার কাঙ্খিত আর্টিকেলটা যদি আপনার ওয়েবসাইটে খুঁজে পায়। এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি হয়। তবে সেই ইউজার অবশ্যই অন্যান্যদের সাথে আলোচনা করবে এবং আপনার ওয়েবসাইট রেফার করবে।

সুতরাং গুগল রেংকিং ছাড়াও ওয়েবসাইট ট্রাফিক ধরে রাখার জন্য অন পেজ এসইও এর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই আমি বলে থাকি একটি ওয়েবসাইট রেংকিং এবং ভিজিটরের নিয়ে আসার জন্য অন পেজ এসইও এর গুরুত্ব ৮০% পার্সেন্ট এবং অফ পেজ এসইও এর গুরুত্ব ২০% পার্সেন্ট।

তাই আপনার ওয়েবসাইট র্যাংকিংয়ে আনার জন্য কোন অজুহাত ছাড়াই অন পেজ এসইও তে ১০০% পারসেন দেওয়ার চেষ্টা করুন। দেখবেন অফ পেজ এসইও করতে হবে না, অটোমেটিক আপনার ওয়েবসাইট রাইটিং এসে যাবে।

3 Pings & Trackbacks

  1. Pingback: shamim

  2. Pingback: ওয়েবসাইটের পোস্ট গুগল ইনডেক্স সমস্যার সমাধান - websoriful

  3. Pingback: SEO কি ? গুগোল কিভাবে Website Ranking করে ? - টিপস দাও

10 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.